Wednesday, May 10, 2017

খৈয়াছড়া ঝর্ণা, চট্টগ্রাম

আকার আকৃতি ও গঠনশৈলির দিক দিয়ে নিঃসন্দেহে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঝর্ণা ‘খৈয়াছড়া’। এই ঝর্ণাতে আছে মোট ৭টি মুল ধাপ (কারো মতে ৯টি) এবং অনেকগুলো বিচ্ছিন্ন ধাপ, যা বাংলাদেশের আর কোন ঝর্ণাতে এখনও পর্যন্ত দেখা যায়নি। তাই ‘খৈয়াছড়া’ কে বলা যায় বাংলাদেশের ঝর্ণা রাণি।



অবস্থানঃ খৈয়াছড়া ঝর্ণা চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বড়তাকিয়া বাজারের উত্তর পার্শ্বে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪.২ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। এর মধ্যে ১ কিলোমিটার পথ গাড়িতে যাওয়া যায় এবং বাকী পথ পায়ে হেঁটে যেতে হবে। ২০১০ সালে সরকার বারৈইয়াঢালা ব্লক থেকে বড়তাকিয়া ব্লকের ২৯৩৩.৬১ হেক্টরর পাহাড়কে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করলে খৈয়াছড়া ঝর্ণা জাতীয় উদ্যানের আওতাভুক্ত হয়।



বিবরনঃ খৈয়াছড়ার মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি অন্যান্য ঝর্ণার মতো সরাসরি পাহাড় থেকে নিচে এসে পড়েনি। ঝর্ণাটির মোট ৭টি ধাপ (কারো মতে ৯টি ধাপ) আছে। এর মধ্যে খুব সহজে নিচ থেকেই দেখা যাবে তিনটি ধাপ, কিন্তু ওপরের চারটি ধাপ দেখতে হলে বাম পাশের প্রায় খাড়া পাহাড় বেয়ে উঠতে হবে বেশ খানিকটা ওপরে।

ওপরের ওঠার পর তার সৌন্দর্য আপনার সমস্ত কষ্ট ভুলিয়ে দিবে। ওপরে উঠলে দেখা মিলবে আরো একটি ধাপের। এর বাম পাশ দিয়ে সামান্য হাঁটলেই দেখা মিলবে অপর তিনটি ধাপের। এতেও যদি আপনার মন না ভরে তাহলে এই তিনটি ধাপের পাশ দিয়ে পাহাড় বেয়ে উঠে যান আরো ওপরে, সেখানে আশপাশের বহুদূর বিস্তৃত পাহাড় আর জঙ্গলের অপূর্ব দৃশ্য কিছুক্ষণের জন্য হলেও আপনাকে ভুলিয়ে দেবে আপনার পরিশ্রম আর নিরাপদে নিচে ফিরে যাওয়ার ভাবনার কথা।ঝর্ণায় যাওয়ার রাস্তাটি দারুন মনোমুগ্ধকর। গাড়ির রাস্তা পার হয়ে যখন হাঁটা শুরু করবেন এর চারি পাশের দৃশ্য দেখে আপনি মুগ্ধ হতে বাধ্য হবেন। খানিকক্ষণ উঁচু-নিচু রাস্তা পার হয়ে একসময় এসে পড়বেন পাহাড়ি ঝিরিপথে। এরপরই শুরু হবে আপনার আসল অ্যাডভেঞ্চার। আপনাকে ঝিরি পথ ধরেই এগিয়ে যেতে হবে। কখনো হাঁটুপানিতে পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটবেন তো সেই পানিই কখনো কখনো আপনার কোমর ছাড়িয়ে বুক পর্যন্ত উঠে আসবে। আনুমানিক দেড় ঘণ্টার মতো হাটার পর আপনি ঝর্ণার কাছে পৌছে যাবেন। এরপর যখন খৈয়াছড়ার দর্শন পাবেন, তখন বিস্ময়ে অভিভূত হওয়া ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না।

এই ঝর্ণার পানিতে গোসল করার লোভ সামলানো কারো পক্ষেই সম্ভব না। সুতরাং দেরি না করে নেমে পড়ুন ঠান্ডা ঝর্ণার জলে। পানি যেহেতু খুব বেশীনা তাই ডুবে যাওয়ার ভয় নেই। ঝর্ণার বাম দিক থেকে ডানদিক অপেক্ষাকৃত গভীর।

যেভাবে যাবেনঃ ঢাকার যেকোনো বাস কাউন্টার থেকে চট্টগ্রামগামী বাসে উঠবেন। যাওয়ার পথে ঢাকা চট্টগ্রাম রোডে চট্টগ্রামের মিরেরসরাই পার হয়ে বারতাকিয়া বাজারের আগে খৈয়াছড়া আইডিয়াল স্কুলের সামনে নামবেন। পথে যানজট না থাকলে ৪/৫ ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাবেন মিরেরসরাই। বড় তাকিয়া বাজারে খৈয়াছড়া আইডিয়াল স্কুলের কাছে গিয়ে স্থানীয় লোকদের জিজ্ঞাসা করলেই তারা বলে দেবে কোন পথে যেতে হবে। ঢাকা চট্টগ্রাম রোডে নেমে পূর্বদিকে গ্রামের রাস্তা ধরে দশ মিনিট হাঁটলে পথে রেললাইন পরবে, রেললাইন পার হয়ে আরো দশ মিনিট হাঁটলে ঝিরি পাবেন। ইচ্ছে করলে ঢাকা চট্টগ্রাম রোড থেকে ঝিরি পর্যন্ত আপনি সি.এন.জি নিয়ে (৭০-৮০টাকা লাগবে) যেতে পারবেন। ঐখান থেকে আপনাকে খৈয়াছড়া ঝর্ণার মূল ট্র্যাকিং শুরু করতে হবে। প্রয়োজন হলে সেখান থেকে গাইডও নিয়ে নিতে পারেন। ঝর্ণায় যাওয়ার রাস্তা একটিই, আর পথে আরো অনেক অ্যাডভেঞ্চারপিয়াসীর দেখা পাবেন, কাজেই পথ হারানোর ভয় তেমন একটা নেই বললেই চলে। এছাড়া সীতাকুন্ড বা মিরেরসরাই নেমে ঐখান থেকে সি.এন.জি নিয়েও আসতে পারেন ঝিরির আগ পর্যন্ত।

জঙ্গলের ভেতর দিয়ে পাহাড়ি ঝিরিপথ ধরে প্রায় দেড় ঘণ্টা হাঁটলে দেখা পাবেন ঝর্ণার। হাতে সময় নিয়ে যাওয়া ভালো, ঝর্ণা দেখে ফিরতে ফিরতে বেশ সময় লাগবে। খাবার সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারেন, তবে ঝর্ণায় যাওয়ার পথেই অন্তত তিনটি জায়গায় দেখা মিলবে স্থানীয় হোটেলের, চাইলে সেখান থেকেও খেয়ে নিতে পারেন। খাবারের দাম তুলনামূলক সস্তাই হবে।

থাকার স্থানঃ বড়তাকিয়া বাজারে থাকার কোন হোটেল নেই। কিন্তু আপনি চাইলে চেয়ারম্যানের বাংলোয় উঠতে পারেন। এছাড়াও স্থানীয় লোকদের সাথে ব্যবস্থা করে তাদের বাড়ীতে থাকতে পারবেন। মিরেরসরাই বা সীতাকুন্ডে আপনি থাকার জন্য বেশ কিছু স্থানীয় হোটেল পাবেন। মিরেরসরাই বা সীতাকুন্ডে খাওয়ার জন্য অনেক রেস্টুরেন্টও পাবেন।

সতর্কতাঃ মনে রাখবেন অব্যবহৃত খাবার, চিপসের প্যাকেট, সিগারেটের ফিল্টার, পানির বোতলসহ অন্যান্য আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলবেন না। এই গুলি সাথে করে নিয়ে আসবেন এবং বাইরে এসে কোথাও ফেলবেন। জোঁক ছাড়ানোর জন্য সাথে লবন বা গুল রাখবেন। জোঁক কামড়ালে হাত দিয়ে টেনে ছাড়াতে যাবেন না, লবণ/গুল ছিটিয়ে দিলেই কাজ হবে।

ঝর্ণায় যাওয়ার রাস্তা বেশ দুর্গম এবং পাথরের যায়গা পিচ্ছিল থাকতে পারে। তাই সতর্ক হয়ে পথ চলবেন। মারাত্মক কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ওই দুর্গম রাস্তা পাড়ি দিয়ে ফিরে আসা অনেক কঠিন হবে। একেবারে ওপরের ধাপগুলো খাড়া পাহাড় বেয়ে উঠতে হবে তাই সেই ক্ষেত্রে খুব সতর্ক হয়ে চলতে হবে। পাহাড়ে চড়ার অভিজ্ঞতা না থাকলে ওপরে ওঠার চেষ্টা না করাই ভালো।

Tuesday, May 2, 2017

নাপিত্তাছড়া ঝর্না (ঢাকাবাসীদের জন্য গাইডলাইন)

“নাপিত্তাছড়া ট্রেইল”


যেভাবে যাবেন নিচে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হলঃ

১. স্টার লাইন টিটি পাড়া কাউন্টার থেকে রাতের বাস-ঢাকা টু ফেনী -সময়-১১.২০ মিঃ ,১১.৪০মিঃ -ভাড়া-২৭০।রাস্তায় কুমিল্লা মিয়ামি হোটেলে ব্রেক দিবে কফি +কেক= (৩০+১০)খেতে পারেন।

২. ভোর ৪.৩০-৫.৩০ মিঃ এর মধ্যে ফেনী তে পৌছাবেন।অবশ্যই ফেনী মেইন কাউন্টারে নামবেন।ওখানে ৬-৬.৩০মিঃ পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

৩. মেইন কাউন্টার থেকে রাস্তায় এসে মহিপাল যায় সিএনজি, টম টম পাবেন -ভাড়া-৫ টাকা।
এখানে নাস্তা করে নিবেন।আমরা খেয়েছিলাম ফুড পাক রেস্তোরায়।
২ টা পরটা+ডাল+ডিম=৫০ টাকা

৪. এখন চলে আসুন মহিপাল মেইন রোডে।দেখবেন স্টার লাইনের চিটাগাং গামী বাস দাঁড়িয়ে আছে অথবা মিরেরসরাই বাস এর কথা কারও কাছে জিজ্ঞেস করলেই হবে।মহিপালে স্টার লাইনে র গাড়িগুলোর সামনে লোকাল বাস আছে যেগুলো ন দুয়ার হাট যায়। বাসের নাম চয়েস(আমরা গিয়েছলাম)।উঠে পরুন।সুপার ভাইজার কে ভাল করে বলবেন ন দুয়ারহাট নামবেন।ভাড়া -৪০ /৫০ টাকা। ন দুয়ার হাট নেমে মেইন রোড ধরে হাটা শুরু করেন।প্রথমে পাকা ঢালাই রাস্তা এরপর ইটের রাস্তা এরপর মাটির কাচা রাস্তা। হাটার পথিমধ্যে দ্বিধায় পরলে লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলেই হবে। তারপর ঢাকা টু চিটাগাং গামী রেললাইন পাবেন, রেললাইনের আগে কিছু দোকান আছে সেখান থেকে কিছু শুকনো খাবার কিনে কারণ এরপর খবারের জন্য কিছু পাবেন না। আমরা কলা+বিস্কুট+চকলেট=১০০ টাকার নিয়ে ছিলাম।

এখন আপনি যাওয়ার পথে অনেক বড় কাকুরা, ছোট ছেলেরা আছে যারা গাইড হয়ে আপনাদের সাথে যেতে চাবে।৩০০ টাকা দিয়েছিলাম আমরা।ভাগ্যগুণে খুব ভাল পেয়েছিলাম গাইড ক্লাস ৩ তে পড়ুয়া সজীব। আপনি ইচ্ছা করলে নাও নিতে পারেন। কিন্তু আমার অভিমত হচ্ছে গাইড নেয়া।

৫. এবার ঝিরিপথের দিকে চলে আসলেন গ্রামের মাটির পথ থেকে, ঝিরিপথ এ পানি ও স্রোএ বেশি থাকলে অন্য পথ দিয়ে যাবেন। গাইড এ নিয়ে যাবে।এখন ঝিরিপথ + পাহাড় দিয়ে ১-২ঘন্টা হাটলে প্রথমটা দেখতে পাবেন ছোট নাপিত্তাছড়া /কুপিকাটাকুম ঝরনা।

এরপর আবার পাহাড় + ঝিরিপথ ধরে হেটে ১-২ ঘন্টা হেটে সবচেয়ে সুন্দর ঝরনা বান্দরকুম।
এরপর আবার ঝিরিপথ ধরে হেটে সব শেষের ঝরনা বাগবিয়ান/বান্দরছিড়া।
ঝরনার দেখার মধ্যে শুকনো খাবার দিয়ে নাস্তা টা সেরে নিবেন।কারণ দুপুরের খাবার মহিপাল গিয়ে খাবেন।

৬. এবার ফেরার পালা,আবার সেই ঝিরিপথ + পাহাড় বেয়ে দু পাকে চালিয়ে গ্রামে চলে এসে ভিজা কাপড় গুলো চেঞ্জ করে নেন।গাইড কে বললেই ব্যবস্থা করে দিবে।আমাদের গাইড তার বাড়িতে নিয়ে চা বিস্কুট দিয়ে আপ্যায়ন করেছে।এখন আবার আগের মত হাটার পথ ধরে ফিরে যাবেন ন দুয়ারী হাট। হাইওয়েতে সাবধান হয়ে রাস্তা পার হয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করবেন। ফেনিগামি বাসগুলার দিকে হাত দেখাবেন,এর মধ্যে চয়েস / আনন্দ সুপার পাইলে তো হল।ভাড়া আগের মতই ৪০/৫০ টাকা করে।

৭. মহিপাল এসে দুপুরের খাবার খেয়ে নিবেন।আমরা সকালের রেস্তোরা ফুড পাক খেয়েছিলাম। আমাদের বিল ছিল ৫৩০ টাকা।
খাবার আপনার উপর ডিপেন্ড করে।গরুর খিচুড়ি =৮০ টাকা করে আমার বন্ধুরা খেয়েছে।অবশ্য আমি ভাত+আলু ভাজি +গরু মাংস+ডাল খেয়েছি।চা খেতে পারেন, ভালই ছিল চা টা।

৮. এবার ঢাকায় ফিরার পালা।মহিপাল থেকে এনা /স্টার লাইনের কাউন্টারের কথা বলে সিএনজি তে উঠু পড়ুন। ভাড়া -৫-১০ টাকা।
আমি বলব এনাতে যান কারণ স্টার লাইনের বাস ভাল না।আসার সময় বসতে পারি নাই ঠিকমত। ঢাকা আসার ভাড়া-২৭০ টাকা।




*কিছু কথাঃ এখন বৃষ্টির সময় এখন গেলে রেইন কোট নিবেন অবশ্যই।আর জোকের কামড় খেতে পারেন সেজন্য এন লেট লাগায়ে নিতে পারেন।
লবণ নিবেন নিজ দায়িত্বএ।জোক ধরলে মাথা গরম করার কিছু নাই।লবণ দিলেই কুপোকাত।জোক ছোটানোর জন্য টানাটানি করবেন না।

জোক ছাড়ার পর ব্লিডিং হবে।ভয় পাবার কিছু নাই এমনি ঠিক হয়ে যাবে।

পোশাকঃ
২ সেট হাফ পেন্ট পাতলা
২সেট গেঞ্জি
ট্রেক জুতা
রেইন কোট ( বৃষ্টি হলে)

খৈয়াছড়া ঝর্ণা, চট্টগ্রাম

আকার আকৃতি ও গঠনশৈলির দিক দিয়ে নিঃসন্দেহে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঝর্ণা ‘খৈয়াছড়া’। এই ঝর্ণাতে আছে মোট ৭টি মুল ধাপ (কারো মতে ৯ট...