Tuesday, May 2, 2017

নাপিত্তাছড়া ঝর্না (ঢাকাবাসীদের জন্য গাইডলাইন)

“নাপিত্তাছড়া ট্রেইল”


যেভাবে যাবেন নিচে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হলঃ

১. স্টার লাইন টিটি পাড়া কাউন্টার থেকে রাতের বাস-ঢাকা টু ফেনী -সময়-১১.২০ মিঃ ,১১.৪০মিঃ -ভাড়া-২৭০।রাস্তায় কুমিল্লা মিয়ামি হোটেলে ব্রেক দিবে কফি +কেক= (৩০+১০)খেতে পারেন।

২. ভোর ৪.৩০-৫.৩০ মিঃ এর মধ্যে ফেনী তে পৌছাবেন।অবশ্যই ফেনী মেইন কাউন্টারে নামবেন।ওখানে ৬-৬.৩০মিঃ পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

৩. মেইন কাউন্টার থেকে রাস্তায় এসে মহিপাল যায় সিএনজি, টম টম পাবেন -ভাড়া-৫ টাকা।
এখানে নাস্তা করে নিবেন।আমরা খেয়েছিলাম ফুড পাক রেস্তোরায়।
২ টা পরটা+ডাল+ডিম=৫০ টাকা

৪. এখন চলে আসুন মহিপাল মেইন রোডে।দেখবেন স্টার লাইনের চিটাগাং গামী বাস দাঁড়িয়ে আছে অথবা মিরেরসরাই বাস এর কথা কারও কাছে জিজ্ঞেস করলেই হবে।মহিপালে স্টার লাইনে র গাড়িগুলোর সামনে লোকাল বাস আছে যেগুলো ন দুয়ার হাট যায়। বাসের নাম চয়েস(আমরা গিয়েছলাম)।উঠে পরুন।সুপার ভাইজার কে ভাল করে বলবেন ন দুয়ারহাট নামবেন।ভাড়া -৪০ /৫০ টাকা। ন দুয়ার হাট নেমে মেইন রোড ধরে হাটা শুরু করেন।প্রথমে পাকা ঢালাই রাস্তা এরপর ইটের রাস্তা এরপর মাটির কাচা রাস্তা। হাটার পথিমধ্যে দ্বিধায় পরলে লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলেই হবে। তারপর ঢাকা টু চিটাগাং গামী রেললাইন পাবেন, রেললাইনের আগে কিছু দোকান আছে সেখান থেকে কিছু শুকনো খাবার কিনে কারণ এরপর খবারের জন্য কিছু পাবেন না। আমরা কলা+বিস্কুট+চকলেট=১০০ টাকার নিয়ে ছিলাম।

এখন আপনি যাওয়ার পথে অনেক বড় কাকুরা, ছোট ছেলেরা আছে যারা গাইড হয়ে আপনাদের সাথে যেতে চাবে।৩০০ টাকা দিয়েছিলাম আমরা।ভাগ্যগুণে খুব ভাল পেয়েছিলাম গাইড ক্লাস ৩ তে পড়ুয়া সজীব। আপনি ইচ্ছা করলে নাও নিতে পারেন। কিন্তু আমার অভিমত হচ্ছে গাইড নেয়া।

৫. এবার ঝিরিপথের দিকে চলে আসলেন গ্রামের মাটির পথ থেকে, ঝিরিপথ এ পানি ও স্রোএ বেশি থাকলে অন্য পথ দিয়ে যাবেন। গাইড এ নিয়ে যাবে।এখন ঝিরিপথ + পাহাড় দিয়ে ১-২ঘন্টা হাটলে প্রথমটা দেখতে পাবেন ছোট নাপিত্তাছড়া /কুপিকাটাকুম ঝরনা।

এরপর আবার পাহাড় + ঝিরিপথ ধরে হেটে ১-২ ঘন্টা হেটে সবচেয়ে সুন্দর ঝরনা বান্দরকুম।
এরপর আবার ঝিরিপথ ধরে হেটে সব শেষের ঝরনা বাগবিয়ান/বান্দরছিড়া।
ঝরনার দেখার মধ্যে শুকনো খাবার দিয়ে নাস্তা টা সেরে নিবেন।কারণ দুপুরের খাবার মহিপাল গিয়ে খাবেন।

৬. এবার ফেরার পালা,আবার সেই ঝিরিপথ + পাহাড় বেয়ে দু পাকে চালিয়ে গ্রামে চলে এসে ভিজা কাপড় গুলো চেঞ্জ করে নেন।গাইড কে বললেই ব্যবস্থা করে দিবে।আমাদের গাইড তার বাড়িতে নিয়ে চা বিস্কুট দিয়ে আপ্যায়ন করেছে।এখন আবার আগের মত হাটার পথ ধরে ফিরে যাবেন ন দুয়ারী হাট। হাইওয়েতে সাবধান হয়ে রাস্তা পার হয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করবেন। ফেনিগামি বাসগুলার দিকে হাত দেখাবেন,এর মধ্যে চয়েস / আনন্দ সুপার পাইলে তো হল।ভাড়া আগের মতই ৪০/৫০ টাকা করে।

৭. মহিপাল এসে দুপুরের খাবার খেয়ে নিবেন।আমরা সকালের রেস্তোরা ফুড পাক খেয়েছিলাম। আমাদের বিল ছিল ৫৩০ টাকা।
খাবার আপনার উপর ডিপেন্ড করে।গরুর খিচুড়ি =৮০ টাকা করে আমার বন্ধুরা খেয়েছে।অবশ্য আমি ভাত+আলু ভাজি +গরু মাংস+ডাল খেয়েছি।চা খেতে পারেন, ভালই ছিল চা টা।

৮. এবার ঢাকায় ফিরার পালা।মহিপাল থেকে এনা /স্টার লাইনের কাউন্টারের কথা বলে সিএনজি তে উঠু পড়ুন। ভাড়া -৫-১০ টাকা।
আমি বলব এনাতে যান কারণ স্টার লাইনের বাস ভাল না।আসার সময় বসতে পারি নাই ঠিকমত। ঢাকা আসার ভাড়া-২৭০ টাকা।




*কিছু কথাঃ এখন বৃষ্টির সময় এখন গেলে রেইন কোট নিবেন অবশ্যই।আর জোকের কামড় খেতে পারেন সেজন্য এন লেট লাগায়ে নিতে পারেন।
লবণ নিবেন নিজ দায়িত্বএ।জোক ধরলে মাথা গরম করার কিছু নাই।লবণ দিলেই কুপোকাত।জোক ছোটানোর জন্য টানাটানি করবেন না।

জোক ছাড়ার পর ব্লিডিং হবে।ভয় পাবার কিছু নাই এমনি ঠিক হয়ে যাবে।

পোশাকঃ
২ সেট হাফ পেন্ট পাতলা
২সেট গেঞ্জি
ট্রেক জুতা
রেইন কোট ( বৃষ্টি হলে)

No comments:

Post a Comment

খৈয়াছড়া ঝর্ণা, চট্টগ্রাম

আকার আকৃতি ও গঠনশৈলির দিক দিয়ে নিঃসন্দেহে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঝর্ণা ‘খৈয়াছড়া’। এই ঝর্ণাতে আছে মোট ৭টি মুল ধাপ (কারো মতে ৯ট...